আপনার সন্তান যেন থাকে হাঁটুজলে

আমরা সমতলে মানুষ পাহাড়ের দুর্গতি সরাসরি বুঝব না। তাই নিজেদের দিয়ে বুঝার চেষ্টা করি। ধরুন আমার বাড়ীর পাশে একটা খাল আছে। বাংলাদেশে মোটামুটি সবার বাড়ীর কাছাকাছি কোনো না কোনো খাল আছে। আগেকার দিনের মুর্খ মানুষেরা খালে কী স্বাদ পেয়েছিল চারদিক ভরিয়ে ফেলেছিল খালে! আমরা বর্তমান শিক্ষিত মানুষ জমির স্বাদ বুঝি। তাই প্রথমে বাড়ীর পেছনে খালের পাড়ে বাড়ীর যত ময়লা আবর্জনা ফেলা শুরু করি। পাড়টা একটু ভরে আসে কয়েক বছরে। খালের উপাড়ের প্রতিবেশীও চালাক লোক, আমার ভাব গতিক দেখে তিনিও আবর্জনা দিয়ে খাল ভরাটের উদ্যোগ নিলেন। এভাবে কিছুটা ভরে এলে আরও মাটি তুলে পিলার গেথে দেয়াল তুলে একটা পাঁকা ঘর তুলে ফেললুম। খালের জমি উদ্ধার করলুম। কিন্তু তারপর, তারপর! বাড়ীর সামনে রাস্তায় পানি জমল, বাড়ীর পানি খালে যাওয়ার রাস্তা নেই, মাটি তুলে ফেলেছি, খালও নেই। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে। এবার শুরু হল আমার দুর্গতি। আমার দুর্গতি হলে তো আপনি বুঝবেন না কষ্টটা, দেখে মজা পাবেন। তারচে’ আপনার বাড়ীর পেছনে একটা খাল আছে। ওইতো আমার মত করে খাল ভরাট করে ফেললেন, দেয়াল হল, দালান এল, আত্মীয়-স্বজন এল, সাংবাদিক এল। সাংবাদিক! সাংবাদিকের পকেটটা ভরাট করে দিলেন। সাংবাদিক ওপাড় থেকেও আরেক পকেট ভরাট করে এলেন, নইলে পত্রিকায় খবর হত, পৌরসভায় খবর যেত, অনেক হ্যাঁপা।

তারপর আপনার বাড়ীর সামনে এক বালতি পানি পড়লেও সরবার যায়গা পায় না। বৃষ্টি হলেই খাল! আবার খাল! খাল তো ভরাট করে ফেলেছিলেন। আপনার দেখাদেখি আশেপাশের সবাই একই কাজ করেছে। খালের চিহ্নস্বরুপ রাস্তার দুইপাশে সেতুর দুইটা হাস্যকর রেলিং আছে শুধু। এখন এই নতুন ভ্রাম্যামান খাল পেরুতে জুতা খুলে হাতে নিতে হয়, প্যান্ট কাঁচতে হয় বা কাছা দিতে হয়। শুরু করলেন গালাগালি, পৌরসভা কিছু করে না, রাস্তায় পানি জমে। পৌরসভার উচিৎ ছিল যখন খাল দখল করছিলেন তখন এসে আপনার কানের নিচে দুইটা বসিয়ে দেয়া, সেটি করে নি, দোষ তো পৌরসভারই! পৌরসভারও তো অনেক কাছ, পৌরভবনের উন্নয়ন, দেয়াল, ফটক ইত্যাদী; ঘুরে ঘুরে রাস্তার পানি সেচা পৌরসভার কাজ না। তো কী আর করবেন, আপনার সন্তান যেন থাকে হাটুজলে।

এবার পাহাড়ে চলি। এখানে খাল ভরে ঘর তুলেছিলেন, ওখানে পাহাড় কেটে ঘর তুলেছিলেন। ঘটনা একই। পাহাড় কাটলে ধ্বস হয়ে, প্রতি বছর মানুষ মরে। কিন্তু তা দেখে শিক্ষা নেয়ার নিয়ম নেই দেশে। পাহাড় কেটেই চলবেন মরেই চলবেন, আর আমার জাতীয় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াবে আপনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা।! না করলে আমি দেশ প্রেমিক নই।

আমাদের বাঙালিদের সমস্যা একটাই, আমরা দুইটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজি না কখনো; “কী করিলে কী হয়” আর “কী কারণে কি হইয়াছে”। কিছু হইলেই প্রথমে শুরু করি দোষাদুষি, মুসলমান হইলে হিন্দুরে, হিন্দু হইলে মুসলমানরে, আওয়ামী লীগ হইলে বিএনপিরে, বিএনপি হইলে আওয়ামী লীগরে, পাহাড়ী হইলে সমতলীরে, সমতলী হইলে পাহাড়ীরে, খাটো হইলে লম্বারে, লম্বা হইলে খাটোরে!

Advertisements
আপনার সন্তান যেন থাকে হাঁটুজলে

একটা সময় ছিল যখন ক্রিকেটে ব্যাটিং করা হত ব্যকরণ মেনে। কোন ধরণের বল কীভাবে খেলা হবে তা ছকে বাঁধা ছিল। আর এখন ব্যকারণই হল ব্যকরণ না মানা, বল এলে উড়াধুরা বাড়ি, বাউন্ডারি, হোক বা না হোক। এই দুই যুগের সন্ধিক্ষণে ক্যারিবিয় অঞ্চলের কোনো এক কৃকেট অ্যাকাডেমিতে খেলা চলছিল- কিশোর ক্রিকেটার নিয়মের বাইরে পা বাড়িয়ে সাপটে মেরে দেয়, ওভার বাউন্ডারি। ক্রিকেট ব্যকরণের কট্টরপন্থি শিক্ষক রেগে গিয়ে ছাত্রকে বলেন, “গাধা, পা কোথায় দেখো!” ছাত্রের চটপটে উত্তর, “বল কোথায় আপনি সেটা দেখুন।“
ঠিক এভাবেই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পা যেখানেই থাকুক, দৃষ্টি রাখতে হবে লক্ষ্যের দিকে।

স্ট্যাটাস

আর্নেস্তো কার্দেনালের কবিতা

১৫

তুমি কবিতা তো দূরে থাক একটা পঙতিরও যোগ্য নও।

৪৮

তুমি এসেছিলে স্বপ্নে
কিন্তু রেখে গিয়েছ যে নিঃসঙ্গতায়
তা স্বৈরাচারের মত বাস্তব Continue reading “আর্নেস্তো কার্দেনালের কবিতা”

আর্নেস্তো কার্দেনালের কবিতা

বাংলাদেশের বাইরে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেলে কোন দেশে বেছে নেবে প্রশ্ন করা হলে সবার প্রথম পছন্দে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী, ইংল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, বা জাপানের নাম। কিন্তু আমার পছন্দ হল মঙ্গোলিয়া! মঙ্গোলিয়ায় প্রতি বর্গ কিলোমিটারে মাত্র দুইজন লোক বাস করে। দুইজনকে থাপ্পর দিয়ে বের করে দিলে এক বর্গ কিলোমিটার এলাকা আমার। এভাবে কয়েক বর্গ কিলোমিটার পেলে সেখানে থাকবে পাহাড়, পাহাড় ঘেরা সবুজ উপত্যকা, সেই উপত্যকার মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী, সেই নদীগুলি অগভীর হয়- হাটুজল, সেই হাটুজলে মাছ বড় বড় মাছ, তাবুর বাইরে দুই কুঁজ ওয়ালা উট আর ঘোড়া বাধা থাকবে। চাঁদবিহীন তারাভরা রাতে ক্লাসিক্যাল মঙ্গোলিয়ান সঙ্গীতের আসর বসবে, আসর খেকে অদূরে আঁধারে বসে সেই গান শুনব। এই তো ধন্যাঢ্য জীবন!

স্ট্যাটাস

দোহার এতসব জনদরদী নেতা, একজন আজীবন মেয়র, ৯ জন সমাজসেবী চেয়ারম্যান, ভুরিভুরি মেম্বার-কমিশনার, একজন উপজেলা চেয়ারম্যান, দুইজন ভাইস-চেয়ারম্যান, একজন এমপি, জাতীয় পর্যায়ের বেশকিছু প্রভাবশালী নেতা, এইসব মাহপরাক্রমশালী নেতারা তাদের সব ক্ষমতা দিয়ে দোহারের বেয়াদপ রাস্তাগুলিকে ঠিক করতে পারছে না। নেতাদের চেয়েও ক্ষমতাশালী এইসব রাস্তাগুলিকেই তাদের বদলে এখন থেকে নেতা মানি।

স্ট্যাটাস

হার্ট লন্ডারিং

বহুদিন আগে মানি লন্ডারিঙ প্রসঙ্গে একটা কাজ করতে ব্যাংক এশিয়ার আন্তর্জাতিক ব্যাংকিঙের ভাইস প্রেসিডেন্টের সাথে বসেছিলাম। তিনি মানি লন্ডারিঙের বিভিন্ন দিক বলছিলেন। তার মধ্যে কিছু কথা ছিল এমন, কোনো লোক অন্য এলাকা থেকে এসেছে একাউন্ট করতে, প্রশ্ন হল তার নিজের এলাকায় ব্যাংক থাকতে এখানে এলেন কেন একাউন্ট করতে, বা কেউ অন্য কোনো ব্যাংকে একাউন্ট আছে কিনা সে তথ্য দিলেন না। প্রশ্ন হল একজন লোক যার বয়স ২৭/২৮ হয়ে গেছে, তার কোনো ব্যাংক একাউন্ট নেই, ব্যাংক এশিয়া কবে ব্যাংকিং শুরু করবে বা কবে এখানে শাখা খুলবে সেই অপেক্ষায় লোকটি এতো দিন একাউন্ট করে নি, এটা তো সহজে গ্রহণযোগ্য নয়। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে এগুলো খতিয়ে দেখতে হবে।

Continue reading “হার্ট লন্ডারিং”

হার্ট লন্ডারিং